Our

STORY

আমাদের সম্বন্ধে

পুজোর ছুটি। শহর থেকে খানিক দূরের গ্রামের পথ। প্রকৃতির আদরে লালিত। মন খারাপের বিকেলে বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে। কেমন ঘোরের মধ্যে কাটছিল মুহূর্তটা। ঘোরটা কাটল শালিখের কিচিরমিচির শব্দে। হঠাৎ চোখ আটকে গেল সামনের উঠোনে। কয়েকটি শালিখ নিজেদের মধ্যে আলাপে ব্যস্ত। অজান্তেই মুখ থেকে বেরল, ‘শালিখ’!

 দূষণযুক্ত শহুরে পরিবেশ থেকে সে তো বিদায় নিয়েছে সেই কবে। ছোটবেলায় জোড়া শালিক দেখে কত শুভ কাজে সফলতার স্বপ্ন দেখেছি।  মনে পড়ে গেল, শিশু ভোলানাথের ওই জায়গাটা, ‘ছুটির দিনে কেমন সুরে/ পুজোর সানাই বাজছে দূরে, / তিনটে শালিখ ঝগড়া করে / রান্নাঘরের চালে। ভালো করে লক্ষ করে বোঝা গেল, ওরা তো ঝগড়া করছে না। ওরা তো মিতালি পাতাতে ব্যস্ত। এ ওকে আদরে আগলে রাখছে। ওরা সুন্দর জীবন খেলায় মেতেছে। কেমন অদ্ভুত এক ভাবনা উদয় হল, ‘খেলনাগুলো সামনে মেলি/ কী যে খেলি, কী যে খেলি,/ সেই কথাটাই সমস্তখন/ ভাবনু আপন মনে। / লাগল না ঠিক কোনো খেলাই, / কেটে গেল সারাবেলাই, / রেলিঙ ধরে রইনু বসে/ বারান্দাটার কোণে।’ মনে হল সত্যিই তো ঘুমিয়ে আছি। ঘুমিয়েই কি কেটে যাবে একটি জীবন? জীবন হতে হবে কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর, ছুটে চলার নিরন্তর অনুপ্রেরণা। জীবনটাকে উপভোগ করতে হবে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে, প্রতিটি ছোট্ট ছোট্ট স্মৃতি আনন্দের মধ্যে। সৃষ্টির আনন্দের মধ্যে। ফিরে এলাম কংক্রিটের জঙ্গল কলকাতায়। আমার কাছের এক ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধু শুনে বলল, চমৎকার। ওই একটা চমৎকার শব্দে জন্ম নিল, ‘আজকের পরিপূর্ণা’ পারিবারিক মাসিক পত্রিকা।

পত্রিকা তো জন্ম নিল সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনে। এখন কী করা হবে? কীভাবে করা হবে! ভাবছি ভাবছি শুধু ভাবছি। একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা এগোচ্ছি। আমরা হাসতে ভুলে যাচ্ছি। আমরা মন খুলে যে কথা বলতে চাই, তা বলতে পারছি না। কোথায় বলব, কাকে বলব?  ফলে বাড়ছে জটিলতা, বাড়ছে দ্বেষ-বিদ্বেষ, হিংসা আর অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ভালোবাসাটা উবে যেতে চলেছে নাগরিক ডিকশনারি থেকে। অথচ সবাইকে ভালবাসতে শিখলে, সবার কল্যাণে কাজ করে গেলে, জীবনের প্রান্তলগ্নে এসে জীবন প্রাপ্তির পাটীগণিতে দেখবেন মানুষের ভালবাসায় আপনি আকণ্ঠ ডুবে আছেন! এরথেকে পরিতৃপ্তি জীবনে আর কিছুতে হতে পারে কি! বাঁচার মতো বাঁচতে জানতে হবে। জীবনটা রোমাঞ্চকর একটা অভিযান। ওই আঁকা বাঁকা পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া যাক না...

বিশ্বজুড়ে নেটে জড়িয়ে আছি আমরা। অনেক একাত্মতা, অনেক আন্তরিকতার ছোঁয়া আছে তাতে। কত সহজে কত মানুষকে এক সঙ্গে কাছে পেতে পারি, সে দেশে হোক বা বিদেশ। তাই ঠিক করলাম আমরা সবাই সবার সঙ্গে কথা বলব। যখন খুশি, তখনই। এখন তো হাতের মুঠোয় গোটা পৃথিবীকে নিয়ে ঘুরি আমরা। ফলে অ্যাপস ডাউনলোড করে নিলে আর কোনও সমস্যা থাকে না। কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পরলে, অফিসে কাজের অবসরে, ছুটির বিকেলে বারান্দায় কফি খেতে খেতে, বাসে-ট্রেনের সিটে বসে গল্প-কবিতা, বিনোদন উপভোগ করা, শারীরিক-মানসিক সমস্যার সমাধান করে ফেলার এতো ভালো সুযোগ আর কোথায় আছে। বিশেষ করে জীবনকে এত কাছ থেকে দেখা, উপলব্ধি করার এর থেকে ভালো পন্থা আর কোথায়! আজকে এই মুহূর্তে নিজেকে পরিপূর্ণ করতে ও পরিপূর্ণভাবে পেতে এই মাসিক পারিবারিক পত্রিকা ‘আজকের পরিপূর্ণা’ আপনার বন্ধু হয়েই থাক না। সবার পরিবারের বন্ধু। এ শুধু কথার কথা নয়, এ ফলেই পরিচয়।

একটা ঝলমলে রোদ আসুক জীবনে। এই ঝলমলে রোদ যতদিন হাসবে, পাখির কলকাকলি, গাছের পাতায় হাওয়ার দোলার ঝিরঝির শব্দ যতদিন শোনা যাবে, ভোরের খোলা হাওয়ায় বুকভরে শ্বাস নিতে পারা যাবে- ততদিনই আপনার পরিবারে এই বন্ধু আপনার সঙ্গে থাকছে। থাকছেই থাকছে।